শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

ভারতীয় আলেম সমাজ ও বঙ্গীয় পীর মাশায়েখগণের ভূমিকা

মনসুর আহমদ : গোটা উপমহাদেশে আল্লাহর কিতাব ও রসুল (স:)-এর সুন্নতের ভিত্তিতে একটি ইসলামী হুকুমত কায়েম এবং সে প্রয়োজনে গোটা উপমহাদেশ থেকে ইংরেজদের উৎখাত করার প্রচেষ্টা চালাতে গিয়ে মুজাহিদ আন্দোলনের সিপাহসালার সৈয়দ আহমদ বেরলভী (র:) তাঁর মুজাহিদ গাজী বাহিনী নিয়ে ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৬ই মে বালাকোটে শাহাদাৎ বরণ করেন। সৈয়দ আহমদ বেরলভী (র:) এবং বিরাট সংখ্যক সহযোদ্ধাদের শাহাদাৎ লাভের কারণে অবশিষ্ট মুজাহিদ বাহিনী কিছু দিনের জন্য উদাস, বিমর্ষ ও নিরাশ হয়ে পড়েন। কিছু দিন পরে তাঁরা পুনরায় এ অবস্থা থেকে জেগে উঠেন এবং ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তৎপর হয়ে ওঠেন। তাঁদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ১৮৫৭ সালের মহাবিপ্লব স্বাধীনতা সংগ্রাম সংঘটিত হয়। এই আজাদী আন্দোলন পরিচালনার কারণে মওলানা ইয়াহইয়া আলী আজীমাবাদী, মওলানা আহমদ উল্লাহ আজীমাবাদী, মওলানা জাফর থানেশ্বরী ও মওলানা আবদুর রহীম সাদিক পুরীকে প্রথমে ফাঁসির হুকুম পরে আন্দামান দীপপুঞ্জে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।
হজরত ইমদাদ উল্লাহ মুহাজির মক্কী : হিন্দুস্তানের মুসলমান ও আলেমরা যখন আজাদী আন্দোলনে লিপ্ত তখন হাজী হজরত ইমদাদ উল্লাহ মুহাজির মক্কী ১৮৫৭ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে শামেলী নামক স্থানে মুসলমানদের একটি রাষ্ট্র কায়েম করেছিলেন। এই জিহাদে তাঁর কিছু সংখ্যক সাথী শাহাদাৎ বরণ করেন আর কিছু সংখ্যক কারাগারে ইংরেজদের নির্যাতন সহ্য করেন এবং অন্য কয়েকজন সহ নিজে গ্রেফতার না হয়ে পবিত্র মক্কা নগরীতে হিজরত করেন। তিনি সেই সুদূর মক্কায় প্রবাসে বসে এ দেশের প্রতিটি ইসলামী আন্দোলনকে নেতৃত্ব প্রদান করেন। হাজী সাহেবের রুহানী ফয়েয লাভ করে উপমহাদেশের যারা স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন তাদের মধ্যে মওলানা রশীদ আহমদ গঙ্গোহী, মওলানা আশরাফ আলী থানবী, মওলানা মাহমুদ হাসান দেওবন্দী ও মওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী প্রমুখ ছিলেন বিশেষ উল্লেখ যোগ্য।
হজরত মওলানা রশীদ আহমদ গঙ্গোহী : হজরত মওলানা রশীদ আহমদ গঙ্গোহী ছিলেন হিজরী চতুর্দশ শতাব্দীর একজন শীর্ষ স্থানীয় ফেকাহবিদ আলেম। তাঁকে যুগের আবু হানিফা নামে অভিহিত করা হতো। তিনি ছিলেন শতাব্দীর এক কামেল ব্যক্তিত্ব। তাঁর কামালিয়াত ও তরিকতের সাধনা স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে তাঁকে বিরত রাখেনি। তিনি তরিকত ও জেহাদের ইলম ও অনুপ্রেরণা লাভ করেন ইমদাদুল্লাহ মুহাজির মক্কীর কাছ থেকে। ইংরেজ বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করার জন্য ১২৭৬ হিজরীতে গ্রেফতার হয়ে তিনি ৬ মাস কারা রুদ্ধ থাকেন। মুযাফফর নগর জেল থেকে মুক্তি লাভ করে গঙ্গোহীতেই তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন। ১২৯৪ হিজরীতে মওলানা মুহাম্মদ কাশেম নানাতুবী ও মওলানা মাহমুদুল হাসানকে নিয়ে হজ্জে গমন করেন এবং সেখানে ইমদাদ উল্লাহ মুহাজির মক্কীর সাথে কিছুদিন কাটিয়ে দেশে ফিরে আসেন। তিনি পুনরায় ১২৯১ হিজরীতে শেষ বারের মতো হজ্জে গমন করেন।  হজ্জের সফরে মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষার বিষয় স্বেচ্ছা নির্বাসিত সিপাহী বিপ্লবের অন্যতম নেতা হাজী ইমদাদ উল্লাহ মুহাজির মক্কীর পরামর্শ গ্রহণ করেন এবং দেশের আলেম সমাজকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন।
শায়খুল হিন্দ মওলানা মাহমুদুল হাসান : শায়খুল হিন্দ মওলানা মাহমুদুল হাসান ছিলেন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের বিশিষ্ট সফল রাজনীতিবিদ। ১২৯৪ হিজরী সনে মওলানা রশীদ আহমদ গঙ্গোহী ও মওলানা মুহাম্মদ কাশেম নানাতুবীর নেতৃত্বে উপমহাদেশের বুজুর্গ আলেমগণের এক কাফেলা পবিত্র হজ্জ সমাপনের জন্য বয়তুল্লাহ শরিফ গমন করেন। শায়খুল হিন্দ এ কাফেলার অন্তর্ভুক্ত হন। হজ্জ সমাপ্ত করে তিনি ১২৯৫ হি: সনে দারুল উলুম দেওবন্দ প্রত্যাবর্তন করেন। দেশে ফিরে এসে ঐ বৎসরেই তিনি সামরাতুত্ তরবিয়ত রাজনৈতিক সংগঠন তৈরী করেন।
শায়খুল হিন্দ একদিকে যেমন ছিলেন আধ্যাত্মিক শায়খ, সাথে সাথে তিনি ছিলেন এক সাহসী রাজনৈতিক নেতা। তিনি উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ইসলামী চিন্তানায়ক শাহ ওয়ালিউল্লাহ সূচিত আন্দোলনের সফল বাস্তবায়নকারী ছিলেন। তাঁর কুটনৈতিক তৎপরতা ও সময়োচিত সাহসী রাজনৈতিক নির্দেশনা ইংরেজদের মসনদের ভিত নেড়ে দেয় এবং উপমহাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সহজ হয়। তিনি জমইয়াতুল আনসার (১৯০৯খ্রি:) এবং নিয়ারাতুল মায়ারিফ (১৯১৪খ্রি:) রাজনৈতিক সংগঠন তৈরী করেন। এ গুলির পরিচালনার নেতৃত্বে ছিলেন তার সুযোগ্য ছাত্র মওলানা উবায়েদুলাহ সিন্ধি। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শায়খুল হিন্দ শেষ জীবনে প্রকাশ্য রাজনীতি শুরু করেন। এ জন্য ইংরেজদের রোষানলে পতিত হয়ে তিন বছর সাত মাস মাল্টায় বন্দী জীবন যাপন করেন।
মওলানা উবায়েদুল্লাহ সিন্ধি : ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে যারা সমগ্র জীবন নিয়োজিত করেছিলেন মওলানা উবায়েদুল্লাহ সিন্ধি তাঁদের মধ্যে এক বিরাট স্থান অধিকার করে আছেন। তিনি ছিলেন এক মহান বিপ্লবী নেতা। ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১০মার্চ পাঞ্জাবের চিয়ানওয়ালী নামক গ্রামে এক শিখ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম রাম সিং। মাধ্যমিক পর্যায়ে লেখা পড়া করার সময় তিনি একজন নও মুসলিমের লেখা ‘তোহফাতুল হিন্দ’ নামক এক খানা পুস্তক পাঠ করে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন, পরে ১৮৮৭ খ্রিষ্টাব্দে পনের বছর বয়সে সিন্ধুর বিখ্যাত সূফী হাফেজ মুহাম্মদ সিদ্দিকের নিকট ইসলাম গ্রহণ করেন।
তিনি দেওবন্দের মওলানা মাহমুদুল হাসানের তত্ত্বাবধানে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। পরে তিনি শায়খুল হিন্দের নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র বিপবের মাধ্যমে ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদীদেরকে এ দেশ থেকে বিতাড়নের এক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কাবুল যান এবং একটি প্রবাসী সরকার গঠন করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাবুল থেকে সীমান্ত প্রদেশ আক্রমণ ও ভিতরে বিদ্রোহ ছড়িয়ে দেবার ব্যবস্থা পাকা পোক্ত করা হয়েছিল।কিন্তু তাদের পরিকল্পনা বৃটিশ গোয়েন্দাদের মাধ্যমে ফাঁস হয়ে পড়ে। পরিণতিতে মওলানা মাহমুদুল হাসান ও তাঁর সঙ্গে মওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী গ্রেফতার হয়ে মাল্টা দ্বীপে নির্বাসিত হন।
মওলানা সিন্ধীর পক্ষে তখন কাবুলে অবস্থান নিরাপদ ছিল না বলে তিনি মস্কো হয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চলে যান। সে সময় ইস্তাম্বুল কেন্দ্রিক ইসলামী খেলাফতের উৎখাত ষড়যন্ত্র প্রবল হয়ে ওঠে। ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের সম্মিলিত ষড়যন্ত্রে ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে খেলাফত উৎখাত হওয়ার পর মওলানা সিন্ধী মক্কায় এসে রাজনৈাতিক আশ্রয় গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে পবিত্র মক্কা থেকে দেশে ফিরে এসে পুনরায় প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
মওলানা সিন্ধী ইউরোপীয় মূলনীতির ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটিয়ে মাতৃভূমিকে ইংরেজদের হাত থেকে মুক্ত করার প্রয়াসী ছিলেন। দীর্ঘদিন নির্বাসনে কাটাবার পর যখন তিনি ভারতে ফিরে এলেন তখন বঙ্গদেশের জমিয়তে ওলামা তার কলিকাতা অধিবেশনে তাঁকে সভাপতির ভাষণ প্রদানে আহ্বান জানালে তিনি ভাষণে বলেন, “আজকে যে বিপ্লব সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং দিন দিন তার ব্যাপকতর বিস্তৃতি ঘটছ, তার ক্ষতি থেকে যদি আমার মাতৃভূমি রক্ষা পেতে চায়, তা হলে তাকে ইউরোপীয় মূলনীতির ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটাতে হবে।” তার এই জাতীয়তাবাদী ধারণাপুষ্ট ভাষণে মুসলমানদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
হজরত মুফতি কেফায়েত উল্লাহ (র:) : এই উপমহাদেশকে মুক্ত করতে যারা অবর্ণনীয় জুলুম নির্যাতন সহ্য করেছেন তাঁদের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মনীষী হলেন হজরত মওলানা মুফতী কেফায়েত উল্লাহ (র:)। তিনি ১৮৫৭ সালের ভারতের উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন এই উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে। সেখানে তিনি ভারতীয় আলেমকুলের মুকুটবিহীন সম্রাট শাইখুল হিন্দ মওলানা মাহমুদুলহাসানের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন।
মুফতী মুহাম্মদ কিফায়েত উল্লাহ (র:) তাঁর পরম প্রিয় ওস্তাদ শায়খুল হিন্দের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রেরণা লাভ করেন এবং রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ শুরু করেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ছিলেন হযরত শাইখুল হিন্দের চিন্তা ধারারই ধারক ও বাহক।
মুফতী সাহেবের রাজনৈতিক জীবনের সর্ব শ্রেষ্ঠ অবদান হচ্ছে তৎকালীন ভারতীয় আলেম সমাজের সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান ‘জমিয়তুল ওলামা’ প্রতিষ্ঠা। তিনি ১৯১৯ সালের নভেম্বর মাসে কয়েকজন বিশিষ্ট আলেমদের আন্তরিক সহায়তায় ‘জমিয়তুল উলামা’গঠন করেন। এ সময় তাঁর ওস্তাদ শাইখুল হিন্দ মাল্টায় বন্দী ছিলেন। ১৯১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে জমিয়তের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় পাঞ্জাবের অমৃতসরে। দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ১৯২০ সালের নভেম্বর মাসে দিল্লীতে। ইতিমধ্যে শায়খুল হিন্দ মাল্টা থেকে মুক্তি লাভ করেন। তাঁকে উক্ত অধিবেশনের সভাপতি মনোনীত করা হয়। কিন্তু তিনি শারীরিক অসুস্থতাহেতু অধিবেশনে যোগ দিতে ব্যর্থ হন। শাইখুল হিন্দ উক্ত অধিবেশনে লিখিত বক্তব্য পাঠান। উক্ত ভাষণে শাইখুল হিন্দ দেশবাসীর সাথে মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে স্বাধীনতা আন্দোলন চালিয়ে যাবার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন এবং খেলাফত কমিটি ও কংগ্রেস পরিচালিত অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি পূর্র্ণ একাত্মতা ঘোষণা করেন। এ অবস্থায় মুফতী কিফায়েত উল্লাহ সাহেব জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং উক্ত অধিবেশনে সভাপতি মনোনীত হন। উক্ত অধিবেশনের ১০দিন পর ৩০ নভেম্বর ১৯২০সালে মাহমুদুল হাসান ইন্তেকাল করেন এবং মুফতী সাহেব জমিয়তে উলামার স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯২২ সালে আর্য সমাজের নেতা স্বামী শ্রদ্ধানন্দ শুদ্ধি অভিযান নামে একটি অভিযান চালিয়ে হাজার হাজার মুসলমানকে ধর্মান্তরিত করতে থাকে। তখন মুফতী সাহেব এ ফেতনা থেকে মুসলমানদেরকে হেফাজত করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন।
খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন কালে বৃটিশ শাসনের বিরুদ্ধে হিন্দু মুসলমানের মধ্যে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল, হিন্দু নেতাদের আন্তরিকতায় মোনাফেকী ও শুদ্ধি আন্দোলনের কারণে সে ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরে। ফলে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ে। ১৯২৯ সালের লাহোর অধিবেশনের পর স্বাধীনতা সংগ্রাম আবার জোরদার হয়। ১৯৩০ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে জমিয়তে ওলামা কংগ্রেসের সাথে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তার পর থেকে জমিয়ত স্বাধীনতা সংগ্রামের সকল কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করে। হজরত মুফতী সাহেব জমিয়তের সভাপতি হিসেবে এ সকল কর্মসূচী পালনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৩০ সালের কংগ্রেসের আইন অমান্য আন্দোলন নেতৃত্ব প্রদান কালে à§§à§§ ই অক্টোবর তাঁকে গ্রেফতার করে ৬ মাসের কারাদ- দেয়া হয়। পুনরায় আইন অমান্য আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়ার অপরাধে ১৯৩২ সালের à§§à§§ র্মাচ তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং à§§à§® মাসের কারাদ- দেয়া হয়। ১৯৩৯ সালে মুফতী সাহেব ক্রমবর্ধমান শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতাহেতু জমিয়তুল ঊলামার সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। জমিয়তের সভাপতি মনোনীত হন মুফতী সাহেবের জীবনের সাথী মওলানা সাইয়েদ হোসাইন আহমদ মাদানী (র:)। আর এ ভাবে মুফতী কিফায়েত উল্লাহ স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেন। 
মওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী (র:) : মওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী জমিয়ত-ই -উলামায়ে হিন্দ এর সভাপতি নির্বাচিত হবার পর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এর শাখা প্রশাখা গঠনে উদ্যোগী হন। ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় আসাম প্রদেশেও কংগ্রেস পন্থী জমিয়ত -ই-উলামায়ে হিন্দ এর বিকল্প স্বরূপ আসাম প্রাদেশিক জমিয়ত -ই -উলামায়ে হিন্দ গঠিত হয়। মওলানা হুসাইন আহমদ মাদানীর সভাপতিত্বে কংগ্রেস পন্থী আসাম প্রাদেশিক জমিয়ত- ই- উলামা-ই- হিন্দের ষষ্ঠ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। মাদানী সাহেবের মুরীদ সহ কয়েক শত আলেম উক্ত সভায় যোগদান করেন।
আলেম সমাজের মধ্যে যারা উত্তর ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায় শিক্ষা প্রাপ্ত ছিলেন বা জমিয়ত-ই- উলামায়ে হিন্দ বা জাতীয়তাবাদী মুসলিম দলের সদস্য বা সমর্থক ছিলেন, তাদের উপর জমিয়ত -ই -উলামায়ে হিন্দ-এর তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট ও দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রধান মওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী এবং জাতীয়তাবাদী মুসলিম দল-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান মওলানা আবুল কালাম আযাদের বিরাট প্রভাব ছিল। প্রধানত এই দুই ব্যক্তির রাজনৈতিক মতবাদের সমর্থনে বাংলার জমিয়ত- ই- উলামা- ই- হিন্দ পন্থী ও জাতীয়তাবাদী আলেমগণ পাকিস্তান বিরোধী ও অখণ্ড ভারতের পক্ষপাতী ছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল পাকিস্তান সৃষ্টির ফলে মুসলমানেরা বিশেষ একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে এবং তাতে তারা উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে অসুবিধার সম্মুখীন হবে।
মওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী পন্ডিত জওহর লাল নেহেরুর অনুরূপ নিখিল ভারতের অধিবাসীদেরকে এক জাতি মনে করেন। পন্ডিতজী ইসলামী জাতীয়তার উপরে আক্রমণ চালিয়ে বলেন যে, তোমাদের আদৌ কোন জাতীয় সত্তা নেই। শুধুমাত্র বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের একটা চক্রান্ত এবং সাম্রাজ্যবাদের কতিপয় দালালদের প্রচারণার ফলেই তোমাদের মন মগজে এ ধারণা বদ্ধমুল হয়েছে যে, তোমরা একটি স্বতন্ত্র জাতি।
মওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী যুক্ত জাতীয়তার উপরে একখানা পুস্তক রচনা করেন। এটি ছিল গান্ধী ও নেহেরুর One nation theory- এর পক্ষের যুক্তি সম্বলিত কিতাব। তিনি তাঁর এই ‘মুত্তাহিদায়ে কওমিয়াত’ (এক জাতি তত্ব) কিতাবে লেখেন :
যুক্ত জাতীয়তার বিরোধিতা ও তাকে ধর্মবিরোধী আখ্যায়িত সংক্রান্ত যেসব ভ্রান্ত ধারণা প্রকাশিত হয়েছে ও হচ্ছে, তার নিরসন করা অত্যাবশ্যক বিবেচিত হলো। ১৮৮৫ সাল থেকে কংগ্রেস ভারতের জনগণের কাছে স্বাদেশিকতার ভিত্তিতে জাতিগত ঐক্য গড়ার আবেদন জানিয়ে অব্যাহত ভাবে জোরদার সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। আর তার বিরোধী শক্তি গুলো সেই আবেদন অগ্রহণযোগ্য, এমনকি অবৈধ ও হারাম সাব্যস্ত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের জন্য এ জাতিগত ঐক্যের চেয়ে ভয়ংকর আর কিছু নেই। এ কথা সুনিশ্চিত, এ জিনিসটা ময়দানে আজ নতুন আবির্ভুত হয়নি। বরং ১৮৮৭ সালে বা তার পূর্ব থেকে আবির্ভুত। বিভিন্ন শিরোনামে এর ঐশী তাগিদ ভারতীয় জনগণের মন মগজে কার্যকর করা হয়ে থাকে।
হজরত মওলানা আশরাফ আলী থানবী (র:) : এ ভাবে যখন জমিয়ত-ই-উলামা-ই হিন্দ এর কংগ্রেসী চরিত্র প্রকট হয়ে ওঠে তখন ভারতের বিভিন্ন অংশের উলামার প্রধান একটি মহলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সর্ব প্রথমে দেওবন্দের মওলানা আশরাফ আলী থানবী দিল্লী জমিয়তের কংগ্রেসী নীতির বিরুদ্ধে মুসলিম লীগের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯২৯ সালের ফেব্রুয়ারীতে জমিয়ত-ই-উলামা-ই হিন্দ এর যে অধিবেশন হয় তাতে যোগদানের জন্য জমিয়তের সেক্রেটারী মওলানা আহমদ সাঈদ তাকে আমন্ত্রণ করেছিলেন। এক পত্রে তিনি নিম্ন লিখিত ভাষায় জমিয়তের সেক্রেটারীকে উত্তর দিয়েছিলেন:- শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গিতে আমি আমার মত প্রকাশ করছি। ইতিপূর্বে আমি মওলানা কেফায়েত উল্লাহ সাহেবের সংগে মৌখিক আলোচনা করেছিলাম। এখন আমি বিভিন্ন ঘটনার নিরিখে আমি দৃঢ়ভাবে এ মত পোষণ করছি যে, কংগ্রেসে যোগদান করা মুসলমানের বিশেষত আলেমদের পক্ষে আমার মতে ধর্মের দিক দিয়া ধ্বংসাত্মক। বরং কংগ্রেসের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করা অত্যন্ত জরুরী। আলেম সমাজের উচিত, মুসলমানদের জন্য নিছক ধর্মীয় নীতি ভিত্তিক স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান গঠন করা। কংগ্রেসে মুসলমানদের প্রবেশ করা বা করানো আমার মতে তাদের ধর্মীয় মৃত্যুর নামান্তর।
মওলানা আশরাফ আলী থানবী খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনের সময় “মাসআলা-এ - তরকে মাওয়ালাত ’’ শীর্ষক একটি উর্দু পুস্তিকা সারা দেশে প্রচার করেন। এ পুস্তিকায় তিনি খেলাফত আন্দোলন সমর্থন করেন। কিন্তু অসহযোগ আন্দোলনকে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে অবৈধ এবং রাজনৈতিক দিক থেকে মুসলিম জাতির জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন:
অসহযোগ আন্দোলন হিন্দুদের একটি চাল মাত্র। আসলে তারা তুরস্কের খিলাফত বা মুসলমানদের হিত কামনা করে না। তাদের মনের কথা হলো, মুসলমানরা চাকরি বাকরি ছেড়ে দিক। তা হলে তারা যেন সে গুলো দখল করতে পারে। মুসলমানগণ হিজরত করে এ দেশ থেকে চলে যাক, তা হলে তারা একাই ভারতে বসবাস করতে পারে।
মওলানা আশরাফ আলী থানবীর মতে কংগ্রেসে যোগদান করা ছিল অসংগত। তিনি মনে করতেন এটা ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার শামিল। মুসলিম লীগে যোগদানকে তিনি মুসলিম জাতির অস্তিত্বের রক্ষা কবচ মনে করতেন। ১৯৩০ সালের মুসলিম লীগের এলাহাবাদ অধিবেশনে ড. ইকবাল উপমহাদেশীয় মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র একটি রাষ্ট্রের পরিকল্পনা পেশ করেন। কিন্তু মওলানা থানবী তার আগেই ১৯২৮ সালেই মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে পত্র যোগে একটি মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
হজরত মওলানা শিব্বীর আহমদ উসমানী (র:) : পাক ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে আলেম সমাজের শিব্বীর আহমদ উসমানী এক তুলনাহীন ব্যক্তিত্ব। মওলানা শিব্বীর আহমদ উসমানী ১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দে দেওবন্দে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মওলানা ফজলুর রহমান। উসমানী ১৩১৯- ১৩৩২৫ হি: পর্যন্ত দারুল উলুম দেওবন্দে ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞান সহ সিহাহ সিত্তা অধ্যয়ন করেন। তাঁর বিশিষ্ট ওস্তাদ ছিলেন শায়খুল হিন্দ মওলানা মাহমুদুল হাসান।
দেওবন্দী আলেমগণের অনেকে পাকিস্তান প্রস্তাবের বিরোধিতা না করলেও মওলানা শিব্বীর আহমদ ছিলেন তার ব্যতিক্রম। তিনি ১৯১৯ থেকে ১৯৪৫খ্রি: পর্যন্ত জমিয়ত-ই-উলামা-ই হিন্দ এর সাথে ছিলেন। কিন্তু তিনি উলামা-ই-হিন্দ পন্থী আলেমদের অখণ্ড ভারত সমর্থন এবং পাকিস্তান প্রস্তাবের বিরোধিতা পছন্দ করতে পারেননি। এ পরিপ্রেক্ষিতে মওলানা রাগিব হাসানের উদ্যোগে ও শিব্বীর আহমদ উসমানীর সহযোগিতায় ১৯৪৫ সালের ১১জুলাই কলকাতায় জমিয়ত -ই -উলামা- ই ইসলাম নামক আলেমদের সর্বভারতীয় লীগ পন্থী রাজনৈতিক দল গঠিত হয়। এই দলের উদ্বোধনী অধিবেশন কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৫ সালের ২৬-২৯ অক্টোবর। ২৯ অক্টোবরের অধিবেশনে মওলানা শিব্বীর আহমদ উসমানী ও মওলানা সৈয়দ কুরাইশ শামসীকে যথাক্রমে জমিয়তের সভাপতি ও সেক্রেটারী নির্বাচিত করা হয়। এই পদ গ্রহণের পূর্বে জমিয়ত -ই -উলামা- এ- হিন্দের এক প্রতিনিধি দল অসম্মতি জ্ঞাপনের জন্য তার উপরে চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু তিনি সেই বাধা উপেক্ষা করে বলেন : The Muslim leage and Jamiat of Calcatta were on the path of Sariat and were walking for the integrity and independence of the Islamic Millat, whereas Jamiat of Delhi was absolutely on the wrong path and was merely a tool in the hands of the Congress to the detriment and disintegration of the Millat.
আল্লামা উসমানী মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাস ভূমির স্বপক্ষে জোরালো যুক্তি পেশ করতে গিয়ে বলেন বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির ধারা অনুযায়ী মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ প্রদেশ সমূহে আমরা এই মহান লক্ষ্য কার্যকর করতে পারবো। আমাদের আকাঙ্খিত ভুখ-টির নাম পাকিস্তান কিংবা হুকুমতে ইলাহিয়াহ অথবা অন্য কিছু হোক। তবে এটা নিশ্চিত যে একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে মুসলমানদের অবশ্যই একটি কেন্দ্রের প্রয়োজন। বলা বাহুল্য সংখ্যা লঘু ও সংখ্যা গুরু জাতি দ্বয়ের যুক্ত শাসনাধীনে এ লক্ষ্য কিছুতেই অর্জিত হতে পারে না। এ ভাবে মওলানা ২৬শে ডিসেম্বর ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, “দীর্ঘ দিনের চিন্তা ভাবনার পর এ সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে, পাকিস্তান অর্জনের জন্য প্রয়োজন হলে রক্ত দেওয়াকেও আমি গৌরবের বিষয় মনে করবো। পাকিস্তান অর্জনের পরে পাকিস্তান সংসদে তিনি আইন প্রস্তাব পাশ করান এবং আইন প্রণয়ন কমিটির সভাপতি নিযুক্ত হন। পাকিস্তান সরকার শাসনতন্ত্র রচনার ব্যাপারে যে মূলনীতি কমিটি গঠন করে ছিলেন তিনি তার সদস্য ছিলেন। তিনি মওলানা সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীর সাহায্য নিয়ে দিবারাত্র পরিশ্রম করে ইসলামী শাসনতন্ত্রের মূলনীতি এবং ধারা উপধারা তথা শাসনতন্ত্রের রূপ রেখা তৈরী করেন। পাকিস্তান আন্দোলনের এই মহান সেনানী ১৯৪৯ সালে ইন্তেকাল করেন।
মওলানা মুফতী মুহম্মদ শফী (র:) : বিশ্ববিখ্যাত আলেম মওলানা মুফতী মুহম্মদ শফী (র:) দেওবন্দে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৩৩৫জিরী সনে দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে আনুষ্ঠানিক লেখা পড়া শেষে তিনি দেওবন্দেই শিক্ষকতা কাজে নিয়োজিত হন।
শায়খুল হিন্দ মওলানা মাহমুদুল হাসান : মাল্টার বন্দী জীবন থেকে মুক্তি লাভ করে দেওবন্দ প্রত্যাবর্তন করার পর তাঁর হাতে জিহাদের বাইয়াত গ্রহণ করেন।
১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবরে কলকাতায় মুহাম্মদ আলী পার্কে নিখিল ভারত উলামা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তাতে উপমহাদেশের খ্যাত আলেম ওলামাদের সাথে মওলানা মুহাম্মদ শফী উপস্থিত ছিলেন। ১৩৬২ হিজরী সনে পাকিস্তান আন্দোলনে অংশ গ্রহণের উদ্দেশ্যে দারুল উলুমের শিক্ষকতার পদে ইস্তফা দেন।
১৯৩৮ সালের পাটনায় মুসলিম লীগের যে বার্ষিক অধিবেশন হয় তাতে মুফতী সাহেব শিব্বিীর আহমদ উসমানীর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান আন্দোলন তুঙ্গে পৌঁছার পর মুফতী শফী উপমহাদেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত সফর করে মুসলমানদের একটি স্বতন্ত্র ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। পাকিস্তান কায়েম হবার পর তিনি দেওবন্দ থেকে করাচীতে হিজরত করেন। পাকিস্তানকে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী রাষ্টে পরিণত করার লক্ষ্যে মুফতী সাহেব সর্বাত্মক প্রায়াস শুরু করেন। ১৯৫১সালের ২১থেকে ২৪জানুয়ারী পর্যন্ত করাচীতে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় ওলামা সম্মেলনে ইসলামী শাসনতন্ত্রের মূলনীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে যে à§©à§§ জন আলেম অংশ গ্রহণ করে ছিলেন মুফতী মুহাম্মদ শফী তাঁদের অন্যতম। উপমহাদেশের এই বিখ্যাত আলেমে দ্বীন পাকিস্তান আন্দোলনের শক্তিশালী নেতা ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে করাচীতে ইন্তেকাল করেন। 
মওলানা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদূদী (র:) : হিজরী ১৩২১ সালের ৩রা রজব (ইং ১৯০৩) আওরাংগাবাদ শহরে শিশু মওদূদী জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আহমদ হাসান মওদূদী ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ্ আইন ব্যবসায়ী। মওলানার ঊর্ধ্বমুখী বংশ পরম্পরা হযরত ইমাম আলী নকীর মাধ্যমে হযরত ইমাম হোসাইন (রা:) পর্যন্ত পৌঁছেছে। হযরত হোসাইন (রা:)-এর নসব নামার ৩৭তম পুরুষ মওলানা মওদূদ (রহ:)।
খেলাফত আন্দোলনের ব্যর্থতার দরুণ যখন ভারতবর্ষের মুসলমানরা শোচনীয় দুর্দশায় নিপতিত তাদের অবস্থা পরাজিত ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাওয়া সেনাবাহিনীর মত। তাদের মধ্যে অবশিষ্ট যে মুষ্টিমেয় সংখ্যক মুসলমান তখনো কিছুটা তেজোদীপ্ত ছিলেন, হিন্দু সাম্রাজ্যবাদ তাদেরকেও নিখিল ভারতীয় জাতীয়তাবাদ ও মাতৃভূমির স্বাধীনতার নামে তাদের দলে ভাগিয়ে নেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত। যখন মুসলমানের ভবিষ্যৎ ছিল এক ভয়াল অমানিশার মত। ঠিক এই সময় ভারতীয় রাজনীতিতে আবির্ভাব ঘটে সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী (রহ:)’র।
বৃটিশ আমলে ভারতের মুসলমানরা সব চেয়ে মারাত্মক যে হুমকির সম্মুখীন হয় তা হলো যুক্ত জাতীয়তার হুমকি। ১৯২৫ সালে খেলাফত আন্দোলন নিষ্ক্রিীয় হয়ে যাওয়ার পর হুমকি আরও গুরুতর আকার ধারণ করে। মুসলমানদের অবস্থা ছিল খুবই শোচনীয়। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস মুসলমানদেরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়। এ উদ্দেশ্যে কংগ্রেস যুক্ত জাতীয়তার আন্দোলনকে তীব্রতর করে তাত্বিক ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের গোটা রাজনৈতিক চিন্তা ধারার ভিত্তিতে যুক্ত জাতীয়তার ধারণা পেশ করতে থাকে। কংগ্রেস নেতাদের পাশাপাশি জমিয়ত-ই-উলামা-ই-হিন্দ-এর নেতাগণ বিশেষ করে মওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী ‘মোত্তাহেদায়ে কওমিয়াত’ (এক জাতি তত্ত্ব) নামে একটি বই লিখে কংগ্রেসী চিন্তাধারাকে মজবুত ভাবে মুসলমানদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন। আলেমদের একটি বিরাট অংশ ইংরেজ দের বিরুদ্ধাচারণ করতে গিয়ে যুক্ত জাতীয়তার সমর্থনে এগিয়ে এসেছিলেন। এ বিষয়ে মওলানা আবুল আলা মওদূদী সাহেব ‘মাসয়ালায়ে কওমিয়াত’ (ইসলাম ও জাতীয়তাবাদ) শিরোনাম যুক্ত কতিপয় ধারাবাহিক নিবন্ধ লেখেন। অকাট্য যুক্তি ও শক্তিশালী প্রমাণাদি এবং বলিষ্ঠ বর্ণনা ভঙ্গির কারণে তা মুসলমানদের মধ্যে অত্যধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। অতি অল্প সময় খুবই দ্রুততার সাথে মুসলিম জনগণের মধ্যে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা যুক্ত জাতীয়তার মতবাদে নিদারুণ আঘাত হানে। এবং মুসলমানরা একটি আলাদা জাতি এ অনুভূতি দ্রুত প্রসার লাভ করতে থাকে।
জাতীয়তা সংক্রান্ত এ আলোচনা নিছক তাত্ত্বিক আলোচনা ছিল না। কংগ্রেস ও জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের গোটা নীতি ও আদর্শের ওপর এর আঘাত পড়েছিল। ইসলামী জাতীয়তা তত্ত্ব সম্পর্কিত তাঁর লেখাগুলি মুসলিম লীগ মহলে ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হয়। পাকিস্তান আন্দোলনের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব। এ মতবাদকে তুলে ধরা মার্জিত করা ও প্রসার ঘটানোর কাজে মওলানার ‘মাসয়ালায়ে কওমিয়ত’-এর অবদান ছিল সব চাইতে বেশি।
মওলানা আবুল আলা মওদূদী ‘জমিয়ত-এ-উলামা-এ-হিন্দ’ এর জাতীয়তাবাদী ধারার কট্টর বিরোধী ছিলেন। কিন্তু অন্য দিকে তিনি জমিয়ত-এ-উলামা-এ-ইসলাম এর আলেমদের মত পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য মুসলিম লীগ যে আন্দোলন চালায় তাতে অংশ গ্রহণ করেননি। বরং তিনি জমিয়ত-এ-উলামা-এ-হিন্দও জমিয়ত-ই-উলামা-এ-ইসলাম সংগঠনে যোগ না দিয়ে জামায়াতে ইসলামী নামক সংগঠন সৃষ্টি করেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য মুসলিম লীগ যে আন্দোলন চালায় মওলানা মওদূদী (রহ:) তাতে অংশ গ্রহণ না করার একমাত্র কারণ ছিল এই যে, মুলিম লীগের কর্মপন্থার সাথে তাঁর মত বিরোধ ছিল। মুসলিম লীগের কর্মপন্থার সাথে ভিন্নমত পোষণের ব্যাপারে মওলানা বলেন :
আপনারা কখনো ধারণা করবেন না যে, আমি কোন মৌলিক মতপার্থক্যের দরুণ এ কাজে অংশ নিতে চাই না। আসলে আমার সমস্যা দাঁড়িয়েছে এই যে, আমি বুঝতেই পারছিনা যে, অংশ গ্রহণ যদি করি তবে কি ভাবে করবো। অধিকন্তু চেষ্টা তদবির আমার মন মানসকে মোটেই আকৃষ্ট করে না। জোড়াতালি দিয়ে কার্য সিদ্ধিতে আমার কখনও আগ্রহ ছিল না। অপনাদের লক্ষ্য যদি হতো প্রচলিত গোটা সমাজ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ রূপে ভেঙ্গে নতুন সমাজ ব্যবস্থার সঠিক পুন:নির্মাণ তা হলে আমি তাতে সর্বান্তকরণে যে কোন খেদমত আঞ্জাম দিতে প্রস্তুত ছিলাম।”
মওলানা পাকিস্তান আন্দোলনে সক্রিয় অংশ গ্রহণ না করলেও তাত্ত্বিক ভাবে তিনি পাকিস্তানের আদর্শের সমর্থনে অব্যাহত ভাবে অবদান রেখে গেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে বলেন: “আমি যদি সীমান্ত প্রদেশের অধিবাসী হতাম, তা হলে গণভোটে আমার ভোট পাকিস্তানের পক্ষে পড়তো। কেননা ভারত যখন হিন্দ ুও মুসলমানদের স্বতন্ত্র জাতীয়তার ভিত্তিতেই বিভক্ত হতে চলেছে। তখন যে যে অঞ্চলে মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে তার মুসলিম জাতীয়তার সাথেই সংযুক্ত হওয়া উচিত।
সম্ভবত ১৯৪০ সালে মুসলিম লীগ যখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে তখন ইসলামী রাষ্ট্র পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবি জোরদার। এ সময় মুসলিম লীগ নেতারা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের জন্য নির্ভেজাল ইসলামী চরিত্রের সংবিধান প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। চার সদস্য কমিটির মধ্যে মওলানা মওদূদী ছিলেন। অন্যতম। এ ছাড়াও যখন ইউপি মুসলিম ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার রূপরেখা রচনার জন্য আলেমদের একটি কমিটিগঠন করে তখন মওলানা মওদূদী তার সদস্যপদ গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয়, পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর ১৯৫১ সালে ইসলামী শাসনতন্ত্রের ২২ দফা মূলনীতি প্রণয়নে যে à§©à§§ জন আলেম অংশ গ্রহণ করেন তাঁদের মধ্যে প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন মওলানা মওদুদী (রহ):। এ ভাবে মওলানা মওদূদী (রহ:) পরোক্ষ ও তাত্ত্বিক ভাবে পাকিস্তান আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে সহযোগিতা প্রদান করেন। তাঁর এই মহান খেদমত সম্পর্কে কায়েদে আযম বলেন, “মওলানা মওদূদী যে খেদমত করেছেন তাতে আমি মুগ্ধ — জামায়াত ও মুসলিম লীগের মধ্যে কোন বিরোধ নেই।”
ইংরেজী ১৯৩৫ সালের পর থেকে এ উপমহাদেশের মুসলমান যে রাজনৈতিক ঘুর্ণিপাকের আবর্তে পড়ে দিক্ ভ্রান্ত হয়েছিল তখন মওলানার ‘সিয়াসী কাশ্মাকাশ’ শীর্ষক সময়োপযোগী প্রবন্ধগুলি তাঁদেরকে পথের সন্ধান দিয়েছিল।
১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্ট পাক ভারতের মুসলমানদের জন্য এক স্মরণীয় দিন। এই দিন ব্রিটিশ ও হিন্দু সাম্রাজ্যবাদের নিগড় থেকে মুসলমানদের আজাদীর সুর্য কিরণ উদিত হয়ে ছিল। এইদিন মওলানা মওদূদী গুরুদাসপুর জেলার পাঠানকোটের নিকটবর্তী ‘দারুল ইসলামে’অবস্থান করছিলেন। পরে মওলানা দারুল ইসলাম ত্যাগ করে লাহোরে চলে আসেন। লাহোরে স্থানন্তরিত হওয়ার পর মওলানা ও তাঁর সহকর্মী লোকজনদের জন্য একটি বাড়ি এ্যালট করার পর চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে তা ফেরত নেওয়া হয়। অত:পর তাঁরা ইসলাম পার্কে তাঁবু করে মাথা গুঁজলেন। পরে তাঁরা ইছরায় ভাড়াটে বাড়িতে চলে আসেন।  
এ ভাবেই ভারতীয় ওলামাদের একটি বিরাট অংশ পাক ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখে গেছেন।
পাক -ভারত স্বাধীনতা আন্দোলনে বঙ্গীয় পীর মাশায়েখ : বাংলাদেশের মুসলিম রেনেসাঁ আন্দোলন, মুসলিম জাতীয়তাবাদ ও আজাদীর প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ আলেম সমাজের ইতিহাস আমাদের কাছে বড় একটা স্পষ্ট নয়। বালাকোটের মুজাহিদ আন্দোলন, ওহাবী আন্দেলন ও সিপাহী বিদ্রোহ -এর মাধ্যমে মুসলমানদের প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় তদুপরি বৃটিশদের জেল জুলুমের শিকার হওয়ায় এদেশের মুসলিম সমাজ যখন ঝিমিয়ে পড়ে তখন এদেশের পীর মাশায়েখ তাদের দূরদৃষ্টি দিয়ে বঙ্গীয় মুসলমানদের স্বার্থ ও অস্তিত্ব রক্ষার পথ দেখাতে সক্ষম হয়েছিলেন। বংগ বিভাগ সমর্থন ও পরবর্তী পাকিস্তান আন্দোলনে সহায়তাকারী পীর মশায়েখদের সংখ্যা ছিল উল্লেখ যোগ্য। এখানে তাঁদের অল্প কয়েক জনের কথা তুলে ধরা হল। যেমন-
পীর বাদশা মিঞা : ফরায়েযী আন্দোলন ছিল বাংলা তথা উপমহাদেশের সর্বপ্রথম সক্রিয় আন্দোলন। এই আন্দোলনের উদগাতা হাজী শরিয়ত উল্লাহ (১৭৮০- ১৮৪৪ হি:) এই উপমহাদেশকে দারুল হরব মনে করতেন। হাজী শরিয়ত উল্লাহ কর্তৃক ফরায়েযী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়া পর্যন্ত ১৩০ বছর এ আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন উঁচু মানের আলেম ও পীর মাশায়েখগণ।                       
১৯০৬ সালে মওলানা রশীদুদ্দীন ওরফে পীর বাদশা মিঞা ফরায়েযী আন্দোলনের ৪র্থ গদীনশীন হন। ১৯০৬ সালের ২৭-২৯ ডিসেম্বর নওয়াব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে ঢাকায় সর্বভারতীয় মুসলমান শিক্ষা সমিতির যে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ঐ অধিবেশন শেষে ৩০ ডিসেম্বর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যে সভায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠিত হয়, তাতে পীর বাদশা মিঞা ফরায়েযী দলের প্রধান রূপে যোগদান করেন। শুধু তাই নয়, ঐ অধিবেশনের ব্যয় নির্বাহের জন্য তিনি জাতির শুভাকাঙ্খীদের নিকট হতে চাঁদা সংগ্রহ করে নওয়াব সাহেবের হাতে তুলে দিয়ে বিরাট সহযোগিতা করেন।
পীর বাদশাহ মিঞা খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তুর্কী খিলাফত অক্ষুন্ন রাখার জন্য তিনি ভারতীয় জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেন। ঐ আন্দোলনের অভিযোগ তাঁকে এক বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়। ১৯২৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক সভায় সিমলা অধিবেশনে ইসলাম বিরোধী সার্দা আইন পাশ করা হয়। পীর বাদশাহ মিঞা প্রাদেশিক মুসলিম সমিতির সভায় যোগদান করে ঐ আইন অমান্য করার অভিমত ব্যক্ত করেন এবং পরে ঐ আইন ভংগ করা হয়।
১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগ পাকিস্তান ইস্যুর উপরে সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তখন মুহম্মদ আলী জিন্ন্াহর আহ্বানে সাড়া দিয়ে পীর বাদশাহ মিঞা মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান কায়েমের লক্ষ্যে অবতীর্ণ হন। তিনি বিভিন্ন পত্র পত্রিকার মাধ্যমে এবং বিভিন্ন জনসভায় বক্তৃতা দিয়ে মুসলিম লীগের বিজয় পথ সুগম করেন। মুসলিম বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পীর বাদশাহ মিঞার অবদানের ঐতিহাসিক মূল্য অনস্বীকার্য।
হযরত মওলানা আবুবকর সিদ্দিকী (ফুরফুরার পীর সাহেব- ১৮৫৮- ১৯৩৯) : হুগলী জেলার ফুরফুরা নিবাসী হযরত মওলানা আবুবকর সিদ্দিকী ইসলাম ধর্ম ও মহান আল্লাহর বাণী প্রচারকে জীবনের মূল কর্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। এ মহান আধ্যাত্মিক সাধক আজীবন ইসলাম প্রচার, মুসলমান সমাজ থেকে কুু সংস্কার দূরী করণ এবং নানা প্রকার ইসলাম বিরোধী আক্রমনের প্রতিরোধ কার্যে ব্যাপৃত ছিলেন। তিনি ‘মুসলিম হিতৈষী ’, ‘হানাফী’, ‘সুন্নাত আল জামায়াত’ ‘মোসলেম’, ‘শরিয়তে এসলাম’, ‘হেদায়াৎ’ ও ইসলাম দর্শন প্রভৃতি পত্রিকার পৃষ্ঠপোষকতা করেন। এ সব পত্র পত্রিকা মুসলিম বাংলার পুনর্জাগরণের অগ্রদূতের ও ভূমিকা পালন করেন।
মওলানা সিদ্দিকী ছিলেন রাজনৈতিক চেতনা সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক নেতা। তিনি নিজে রাজনীতি করাকে প্রয়োজন মনে করতেন এবং আলেমদেরকেও রাজনীতিতে উৎসাহিত করাকে দায়িত্ব মনে করতেন। তিনি বলেন: “শরিয়ত তরিকত, হাকিকত, ও মারেফাত পূর্ণ রূপে আমল করিয়া দেশ ও কওমের খেদমতের জন্য আলেমদেরকে রাজনীতি, সমাজনীতি প্রভৃতিতে যোগ দেওয়া আবশ্যক। রাজনীতির ক্ষেত্র হইতে আলেমদিগের সরিয়া পড়িবার দরুণ আজ মুসলিম সমাজে নানাবিধ অন্যায় ও বেশরা কাজ হইতেছে।”
মওলানা সিদ্দিকী খেলাফত আন্দোলন সমর্থন করেন এবং তার মুরীদদেরকে ঐ আন্দোলনের যোগ দানের জন্য উৎসাহিত করেন। তিনি কংগ্রেস এবং এর অধীনে পরিচালিত অসহেেযাগ আন্দোলনের পক্ষপাতী ছিলেন না। ১৯৩০ সালে মি: গান্ধী কর্তৃক আইন অমান্য আন্দোলন পরিচালনা করা হয়। মওলানা সাহেব এই আন্দোলনের বিরোধিতা করেন।
মওলানা সিদ্দিকী ছিলেন মুসলিম লীগের একনিষ্ঠ সমর্থক। তিনি ১৯৩৬- ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে তাঁর মুরিদানদেরকে মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারী বোর্ড মনোনিত প্রার্থীদের অনুকুলে ভোট দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তাদের এই সমর্থনের কারণে মুসলিম লীগ বিশেষ ভাবে উপকৃত হয়। এই সমর্থনের কারণে লীগ পার্টি ও জমিয়তে ওলামার মনোনীত সদস্যগণ অধিক সংখ্যক নির্বাচন -সংগ্রামে বিজয় অর্জন করতে সমর্থ হন। এই মহান সাধক প্রায় এক শত বছর বয়সে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন।  (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ